
দীর্ঘ সময়ের অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম আর লুটপাটে বিপর্যস্ত অর্থনীতি ধীর ধীরে স্থিতিশীলতার পথে ফিরতে শুরু করেছে। ২০২৬ সালের নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠনের এই সন্ধিক্ষণে আর্থিক খাতের এই ইতিবাচক পরিবর্তনকে বড় সুখবর হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া সংস্কারমূলক পদক্ষেপের ফলে ভঙ্গুর ব্যাংক ব্যবস্থা ও রিজার্ভের সংকটে লাগাম টানা সম্ভব হয়েছে।
২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর যখন অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়, তখন অর্থনীতি ছিল খাদের কিনারে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, রাজস্ব ঘাটতি, রপ্তানিতে মন্দা এবং বৈদেশিক ঋণের পাহাড় ছিল নিত্যসঙ্গী। বিশেষ করে আওয়ামী শাসনামলে ব্যাংক খাত থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ লোপাট এবং শেয়ারবাজারের ধস অর্থনীতিকে অচল করে দিয়েছিল।
অর্থনীতিবিদদের মতে, গত দেড় বছরে বিনিয়োগে বড় কোনো উল্লম্ফন না ঘটলেও সামষ্টিক অর্থনীতিতে শৃঙ্খলা ফেরানোই ছিল সবচেয়ে বড় সাফল্য। বিশেষ করে ডলারের বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি অর্থনীতিকে স্বস্তি দিয়েছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিগত সরকারের শেষ সময়ে দেশের গ্রোস রিজার্ভ তলানিতে নেমে এসেছিল। তবে বর্তমান হিসাব অনুযায়ী (BPM-6 পদ্ধতি), রিজার্ভ এখন ২৯.৪৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে রিজার্ভ বেড়েছে প্রায় ১৪ বিলিয়ন ডলার।
একইভাবে, ডলারের বাজারে দীর্ঘদিনের অস্থিরতা কমেছে। এক সময় ডলারের দর ১২০ টাকা ছাড়িয়ে গেলেও বর্তমানে তা ১২১-১২২ টাকার মধ্যে স্থিতিশীল রয়েছে। হুন্ডির প্রভাব কমিয়ে বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ানোয় এই সাফল্য এসেছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।