
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম ওরফে মাসুদ এবং তাঁর সহযোগী আলমগীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর তাঁদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য ও কনস্যুলার সুবিধা চেয়ে ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করেছে বাংলাদেশ।
সোমবার (১০ মার্চ) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানান, বাংলাদেশের কলকাতা মিশনের মাধ্যমে রোববারই ভারতের কাছে কনস্যুলার অ্যাক্সেস চাওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়ার পর পরবর্তী কূটনৈতিক ও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ভারতীয় পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার রাতে পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী বনগাঁ এলাকা থেকে ফয়সাল করিম (৩৭) ও আলমগীর হোসেনকে (৩৪) আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা বাংলাদেশে রাজনৈতিক কর্মী শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর তাঁরা মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেন এবং বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপন করে ছিলেন। পরে পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ এলাকায় অবস্থানকালে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
এর আগে গত বছরের ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পুরানা পল্টনের কালভার্ট রোড এলাকায় জুমার নামাজের পর রিকশায় থাকা অবস্থায় ওসমান হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় দুর্বৃত্তরা। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে ১৮ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
পুলিশের তদন্তে দাবি করা হয়, ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ফয়সাল করিম সরাসরি গুলি করে এই হত্যাকাণ্ড ঘটান এবং তাঁকে সহায়তা করেন আদাবর থানা যুবলীগের কর্মী আলমগীর হোসেন। হত্যার পরিকল্পনায় আরও কয়েকজন জড়িত ছিলেন বলে তদন্তে উঠে আসে।
এদিকে গ্রেপ্তার হওয়া দুজনকে দেশে ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির।