
জেলার শহর এলাকায় একটি বিউটি পারলারের আড়ালে এক তরুণীকে জোরপূর্বক যৌন কাজে বাধ্য করার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযানের সময় ভুক্তভোগী তরুণীকে উদ্ধার করা হয়।
শনিবার রাতে খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে পুলিশ ওই তরুণীকে উদ্ধার করে এবং ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে আটক করে। পরে তাঁদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের অভিযোগে মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন পারলারের মালিক রত্না ইয়াছমিন (৪০), তাঁর ছেলে মো. তুষার রহমান (২৪) এবং তাজনীন আক্তার ওরফে চাঁদনী (২৩)। এ ঘটনায় আরও দুজনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তাঁরা পালিয়ে যান।
আহত ভুক্তভোগী তরুণীকে চিকিৎসার জন্য মানিকগঞ্জ জেলা সদর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে ওই বিউটি পারলারের আড়ালে অবৈধ যৌন ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন। ভুক্তভোগী তরুণী সেখানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁকে জোর করে যৌন কাজে যুক্ত করার চেষ্টা করতেন পারলারের মালিক ও তাঁর সহযোগীরা।
এজাহারে আরও বলা হয়, গত বুধবার ভুক্তভোগীর ছোট বোন তাঁর বাসায় বেড়াতে এলে অভিযুক্তরা তাকেও একই কাজে যুক্ত করার প্রস্তাব দেন। এতে রাজি না হওয়ায় ভুক্তভোগীর ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়, শনিবার গভীর রাতে তাঁকে বাসা থেকে জোর করে পারলারে নিয়ে গিয়ে মারধর করা হয়। সেখানে তাঁকে লোহার রড দিয়ে আঘাত করা হয়, হাত বেঁধে শিকলে আটকে রাখা হয় এবং একপর্যায়ে কাঁচি দিয়ে তাঁর মাথার চুল কেটে দেওয়া ও মুখে কালি মাখিয়ে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা Ikram Hossain জানান, ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে তিনজনকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং পলাতক অন্যদের ধরতে অভিযান চলছে।