
কুমিল্লায় রেলক্রসিংয়ে ট্রেন ও যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সাম্প্রতিক সময়ে বগুড়ায় ঘটে যাওয়া ট্রেন দুর্ঘটনার পর নতুন করে এই দুর্ঘটনা উদ্বেগ বাড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
শনিবার দিবাগত রাতে ঘটে যাওয়া এ দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ দ্রুত উদঘাটনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার ওপরও জোর দিয়েছেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী এবং স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা করেছেন। আহতদের দ্রুত ও যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার নির্দেশনাও দিয়েছেন তিনি।
এ ঘটনায় দায়ীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রতিটি দুর্ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বহীনতা প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী জানান, কুমিল্লার এই দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ইতোমধ্যে তিনটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ দুটি এবং জেলা প্রশাসন একটি কমিটি করেছে। প্রতিটি কমিটিকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে কয়েকজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
এদিকে, ফেনী, হবিগঞ্জ ও জামালপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া সড়ক ও সেতু দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের কথাও বলা হয়েছে।
রোববার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পবিত্র ঈদের আনন্দঘন সময়ে এ ধরনের দুর্ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক। তিনি উল্লেখ করেন, প্রতিটি মানুষের জীবন মূল্যবান এবং প্রতিটি মৃত্যু অপূরণীয় ক্ষতি।
তিনি নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। পাশাপাশি আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের জনগণের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। রেলক্রসিং ব্যবস্থাপনা, সেতু নিরাপত্তা ও সামগ্রিক পরিবহনব্যবস্থার দুর্বলতা চিহ্নিত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।