
বুধবার (আজ) বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের ৩ নম্বর পন্টুনে অপেক্ষমাণ অবস্থায় একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। বাসটি কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে এসেছিল।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো আজও দুপুর ২টা ২০ মিনিটে ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’-এর বাসটি কুমারখালী পৌর বাস টার্মিনাল থেকে যাত্রা শুরু করে। শুরুতে মাত্র ৬ জন যাত্রী থাকলেও পথিমধ্যে বিভিন্ন স্থান থেকে যাত্রী ওঠানো হয়।
কাউন্টার মাস্টার মো. তন্বয় শেখ জানান, খোকসা থেকে ৭ জন, মাছপাড়া থেকে ৪ জন এবং পাংশা থেকে ১৫ জন যাত্রী ওঠেন। এছাড়া ইঞ্জিন কাভারেও ৪ জন বসেছিলেন এবং গোয়ালন্দ ঘাট থেকেও কয়েকজন যাত্রী ওঠেন। চালক, সুপারভাইজার ও সহকারীসহ বাসটিতে মোট অন্তত ৫০ জন ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে বাসটির আসনসংখ্যা ৪০ হলেও অতিরিক্ত যাত্রী নেওয়া হয়েছিল। ফেরিতে ওঠার আগে কিছু যাত্রী নেমে যাওয়ায় দুর্ঘটনার সময় ঠিক কতজন বাসে ছিলেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
দৌলতদিয়া ঘাটের তত্ত্বাবধায়ক মো. মনির হোসেন জানান, বিকেল ৫টার কিছু পর বাসটি ঘাটে পৌঁছায় এবং ফেরির অপেক্ষায় ছিল। এ সময় ‘হাসনা হেনা’ নামের একটি ছোট ফেরি এসে পন্টুনে জোরে ধাক্কা দেয়। এতে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়।
তিনি বলেন, “চোখের সামনে বাসটি নদীতে পড়ে গেল, আমরা কিছুই করতে পারিনি।” তার ভাষ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সময় বাসে নারী ও শিশুসহ অন্তত ৪০ জন যাত্রী ছিলেন। কয়েকজন সাঁতরে উঠতে পারলেও অধিকাংশ যাত্রী বাসের ভেতর আটকা পড়েছেন।
উদ্ধার অভিযান:
ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় প্রশাসন উদ্ধার অভিযান শুরু করে। রাত ৮টা পর্যন্ত দুইজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। নিখোঁজদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পরিস্থিতি:
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় স্বজনদের আহাজারি ও সাধারণ মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।