
মার্কিন নৌবাহিনী জানিয়েছে, লোহিত সাগরে অভিযান শেষে রণতরিটি গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের সুদা বে নৌ-সহায়তা কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে এটি ‘রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামত’-এর অংশ হিসেবে দেখানো হলেও, সাম্প্রতিক একাধিক প্রতিবেদনে জাহাজটির কার্যক্ষমতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।
চলতি মাসের শুরুতে জাহাজটির প্রধান লন্ড্রি এলাকায় আগুন লাগে। যদিও মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই অগ্নিকাণ্ড যুদ্ধের সঙ্গে সম্পর্কিত নয় এবং দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়, তবে এতে বড় ধরনের অপারেশনাল বিঘ্ন ঘটে। প্রায় ৬০০ নাবিককে তাঁদের আবাসন পরিবর্তন করতে হয়।
প্রযুক্তিগত দুর্বলতা নিয়ে উদ্বেগ:
মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের (পেন্টাগন) সাম্প্রতিক মূল্যায়নে দেখা গেছে, রণতরিটির বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতা এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। এর মধ্যে রয়েছে—
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাস্তব যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এই সিস্টেমগুলোর কার্যকারিতা যাচাইয়ের জন্য এখনও পর্যাপ্ত তথ্য নেই, যা একটি বড় কৌশলগত দুর্বলতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দীর্ঘমেয়াদি মোতায়েনের চাপ:
২০২৫ সালের জুনে মোতায়েনের পর রণতরিটি টানা প্রায় ৯ মাস সমুদ্রে রয়েছে, যা সাধারণত নির্ধারিত সময়ের (প্রায় ৭ মাস) চেয়ে বেশি। এই দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন অঞ্চলে—ক্যারিবীয় এলাকা থেকে মধ্যপ্রাচ্য পর্যন্ত—অভিযানে অংশ নেওয়ায় জাহাজটির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধি:
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপের পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ইরানের দাবি, এ সংঘাতে ১,৩০০-এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
এর জবাবে তেহরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে, যা ইসরায়েলসহ জর্ডান, ইরাক ও উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন স্থাপনাকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়েছে। এতে হতাহত ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি বৈশ্বিক বাজার ও বিমান চলাচলেও প্রভাব পড়েছে।
উপসংহার:
সব মিলিয়ে, বিশ্বের অন্যতম আধুনিক এই বিমানবাহী রণতরি ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’-এর সাম্প্রতিক ঘটনা শুধু একটি অগ্নিকাণ্ড নয়, বরং এর সামগ্রিক সক্ষমতা ও প্রস্তুতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।