
এক বছর আগেও ইউরোপের মঞ্চে লিভারপুলকে ‘প্রায় নিখুঁত দল’ বলে প্রশংসায় ভাসিয়েছিলেন পিএসজি কোচ লুইস এনরিকে। তবে সময়ের ব্যবধানে চিত্রটা এখন একেবারেই ভিন্ন। আজ রাতে পার্ক দে প্রিন্সেসে দুই দল আবার মুখোমুখি হলেও ফর্মের বিচারে এগিয়ে রয়েছে ফরাসি জায়ান্ট পিএসজি।
গত মৌসুমে শেষ ষোলোর লড়াইয়ে প্রথম লেগে পিছিয়ে থেকেও অ্যানফিল্ডে নাটকীয়ভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে টাইব্রেকারে জয় পেয়েছিল পিএসজি। সেই জয় তাদের ইউরোপ সেরার পথে বড় অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠে।
অন্যদিকে লিভারপুল তখন শীর্ষ ফর্মে থাকলেও চলতি মৌসুমে দলটির পারফরম্যান্স বেশ হতাশাজনক। সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতে ধারাবাহিক ব্যর্থতা দলটিকে চাপে ফেলেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে লিভারপুলের পারফরম্যান্সে ধারাবাহিকতা নেই। সর্বশেষ কয়েক ম্যাচে একাধিক পরাজয় দলটির আত্মবিশ্বাসে প্রভাব ফেলেছে। ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় বড় ব্যবধানে হারের পর কোচও খেলোয়াড়দের মানসিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষ চার থেকে ছিটকে পড়ার শঙ্কায় থাকা দলটির এখন প্রধান লক্ষ্য আগামী মৌসুমে ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় জায়গা নিশ্চিত করা।
অন্যদিকে ইউরোপের শিরোপা জয়ের পর পিএসজি দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে। লিগ ওয়ানে ধারাবাহিক জয় তাদের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়েছে। সাম্প্রতিক ম্যাচে তুলুজের বিপক্ষে জয়ের মাধ্যমে তারা শীর্ষস্থান আরও শক্ত করেছে।
দলের তারকা খেলোয়াড় উসমান দেম্বেলে দারুণ ফর্মে রয়েছেন এবং আক্রমণভাগে ধারাবাহিক অবদান রাখছেন। পাশাপাশি অন্যান্য ফরোয়ার্ডরাও প্রতিপক্ষ রক্ষণভাগে চাপ তৈরি করছেন।
তবে পিএসজির রক্ষণভাগে কিছুটা দুর্বলতা চোখে পড়ছে, বিশেষ করে গোলরক্ষকের কিছু ভুল সাম্প্রতিক ম্যাচে আলোচনায় এসেছে। যদিও কোচ এনরিকে বিষয়টিকে স্বাভাবিক বলেই মনে করছেন।
লিভারপুলের হয়ে নজরে থাকতে পারেন তরুণ ফরোয়ার্ড হুগো একিতিকে। এই ম্যাচটি তাঁর জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে, কারণ একসময় তিনি পিএসজিরই অংশ ছিলেন।
বর্তমানে তিনি ভালো ফর্মে রয়েছেন এবং দলের আক্রমণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। তাঁর পারফরম্যান্সই ম্যাচের ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
বর্তমান ফর্ম ও আত্মবিশ্বাস বিবেচনায় পিএসজি কিছুটা এগিয়ে থাকলেও নকআউট ম্যাচে লিভারপুলের অভিজ্ঞতা বড় ফ্যাক্টর হতে পারে। ফলে একটি জমজমাট লড়াইয়ের অপেক্ষায় ফুটবলভক্তরা।