ঢাকা | |

স্কুলে বোমা হামলা ‘উত্তরহীন থাকবে না’ — ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Feb 28, 2026 ইং
ছবি: সংগৃহীত। ক্যাপশন: ছবি: সংগৃহীত।
ad728

দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর মিনাবে একটি বালিকাদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলার ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রইসরাইল শনিবার ভোরে ইরান-এর বিভিন্ন স্থানে যৌথ সামরিক অভিযান চালায়। ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, এই অভিযানের সময় হরমোজগান প্রদেশের মিনাব শহরের একটি বালিকাদের প্রাথমিক বিদ্যালয় লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, এতে অন্তত ৫৩ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে এবং অনেকে আহত হয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে জানান, ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবনটি ছিল বালিকাদের প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং দিনের আলোতে শিক্ষার্থীপূর্ণ অবস্থায় সেখানে বোমা নিক্ষেপ করা হয়। তিনি লিখেছেন, নিহতরা সবাই নির্দোষ শিশু এবং এই হামলা “উত্তরহীন থাকবে না।” আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে প্রচার করেছে।

হামলার প্রেক্ষাপট

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছিল। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার এবং নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের সঙ্গে তেহরানের টানাপোড়েন চলছে। সেই প্রেক্ষাপটে শনিবারের যৌথ অভিযান পরিস্থিতিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।

মার্কিন ও ইসরাইলি পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদ্যালয় লক্ষ্যবস্তু ছিল কিনা সে বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তারা দাবি করেছে, নির্দিষ্ট সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। অপরদিকে ইরানি কর্তৃপক্ষ বলছে, বেসামরিক অবকাঠামো ও শিশুদের ওপর হামলা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের লঙ্ঘন।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

ঘটনার পরপরই বিভিন্ন দেশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো সংঘাত প্রশমনের আহ্বান জানিয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তুলেছে। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

আঞ্চলিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এই হামলার জেরে ইরান পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে। ইতোমধ্যে তেহরান “প্রতিশোধমূলক জবাব”-এর ইঙ্গিত দিয়েছে। এতে উপসাগরীয় অঞ্চলসহ বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে উঠতে পারে।

স্থানীয় পরিস্থিতি

মিনাব শহরে শোক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। হাসপাতালগুলোতে আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা চলছে। স্থানীয় প্রশাসন জরুরি সহায়তা কার্যক্রম শুরু করেছে। নিহতদের পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানিয়ে জাতীয় শোক ঘোষণার দাবিও উঠেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেসামরিক জনগোষ্ঠী বিশেষ করে শিশুদের প্রাণহানি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। ফলে কূটনৈতিক চাপ বাড়তে পারে। একই সঙ্গে উভয় পক্ষের মধ্যে সরাসরি বা পরোক্ষ সংঘর্ষের ঝুঁকিও বাড়ছে।

সামনে কী?

পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। ইরান যদি সরাসরি পাল্টা আক্রমণ চালায়, তবে তা আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মহলের মধ্যস্থতায় কূটনৈতিক আলোচনার পথও খুলতে পারে।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সংঘাত যাতে আরও বিস্তৃত না হয় তা নিশ্চিত করা। বিশ্ব সম্প্রদায় এখন গভীরভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।

কমেন্ট বক্স

নিউজলেটার

নিউজ আপডেট পিতে সাবস্ক্রাব করুন।