ঢাকা | |

পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠনের কল্যাণ তহবিলের অর্থকে চাঁদাবাজি নয় বললেন সড়কমন্ত্রী

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Mar 5, 2026 ইং
সংবাদ সম্মেলন সড়ক পরিবহন, রেল ও নৌ পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। আজ রোববার বিকেলে সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন মহাসড়ক বিভাগের সম্মেলনকক্ষে ছবি: সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সৌজন্যে ক্যাপশন: সংবাদ সম্মেলন সড়ক পরিবহন, রেল ও নৌ পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। আজ রোববার বিকেলে সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন মহাসড়ক বিভাগের সম্মেলনকক্ষে ছবি: সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সৌজন্যে
ad728

সড়ক পরিবহন, রেল ও নৌ পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলো যদি বৈধভাবে তাদের কল্যাণ তহবিলের জন্য অর্থ সংগ্রহ করে, তাহলে সেটিকে চাঁদাবাজি বলা যাবে না। তবে ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না বলেও তিনি সতর্ক করেছেন।

রোববার বিকেলে সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সম্মেলন কক্ষে ঈদযাত্রার প্রস্তুতি বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী জানান, কোনো সংগঠন নিবন্ধিত না হলে বা স্বেচ্ছাচারীভাবে মালিক বা শ্রমিকদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করলে সেটি চাঁদাবাজি হিসেবে বিবেচিত হবে। এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এর আগে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম সংবাদ সম্মেলনেও তিনি বলেন, পরিবহন খাতে যে অর্থ আদায়ের বিষয়টি চাঁদা হিসেবে পরিচিত, তা অনেক ক্ষেত্রে মালিক ও শ্রমিক সংগঠন তাদের কল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করে থাকে। তবে এসব অর্থের ব্যবহার নিয়ে বিতর্ক রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এদিকে বিদ্যমান সড়ক পরিবহন আইনে মালিক বা শ্রমিক সংগঠনের নামে নিয়মিতভাবে যানবাহন থেকে অর্থ সংগ্রহের কোনো স্পষ্ট বিধান নেই বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। অনেক ক্ষেত্রে প্রতিদিন বিভিন্ন স্থানে যানবাহন থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে, যার প্রভাব পড়ে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের ভাড়ায়।

আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক যাত্রা নিশ্চিত করতে সড়ক, রেল ও নৌ পরিবহন খাতের সংশ্লিষ্ট সংস্থা, মালিক-শ্রমিক সংগঠন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

মন্ত্রী বলেন, ঈদের আগে দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে প্রায় দেড় কোটি মানুষ ঢাকা ছাড়বেন। এই বিশাল যাত্রীচাপ মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ঈদযাত্রায় নির্ধারিত ভাড়ার বেশি আদায় করা যাবে না। কেউ অতিরিক্ত ভাড়া নিলে সংশ্লিষ্ট পরিবহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজন হলে রুট পারমিট বাতিল করা হবে। হাইওয়ে পুলিশ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সড়কে তদারকি জোরদার করা হবে।

ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে মহাসড়কে অস্থায়ী দোকান, অবৈধ পার্কিং ও ব্যাটারিচালিত যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ বা বিকল যানবাহন সড়কে নামতে দেওয়া হবে না এবং চলমান সড়ক সংস্কারকাজ দ্রুত শেষ করার কথা বলা হয়েছে।

যাত্রীচাপ কমাতে পোশাক কারখানাগুলো ধাপে ধাপে ছুটি দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। প্রয়োজনে রাষ্ট্রায়ত্ত পরিবহন সংস্থা বিআরটিসির অতিরিক্ত বাস প্রস্তুত রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতা ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস বলেন, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে পরিবহন খাতের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক চলবে।

এ সময় সড়ক ও রেল মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসানসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কমেন্ট বক্স

নিউজলেটার

নিউজ আপডেট পিতে সাবস্ক্রাব করুন।