মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ঘিরে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় বাংলাদেশেও তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ফিলিং স্টেশন থেকে জ্বালানি তেল বিক্রিতে সাময়িক সীমা নির্ধারণ করেছে Bangladesh Petroleum Corporation (বিপিসি)। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী মোটরসাইকেল দিনে সর্বোচ্চ ২ লিটার এবং ব্যক্তিগত গাড়ি ১০ লিটার পর্যন্ত তেল নিতে পারবে।
বিভিন্ন যানবাহনের জন্য নতুন সীমা
বিপিসির নির্দেশনা অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের জন্য দৈনিক তেল সরবরাহের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে—
-
মোটরসাইকেল: ২ লিটার পেট্রল বা অকটেন
-
ব্যক্তিগত গাড়ি: ১০ লিটার
-
এসইউভি (জিপ) ও মাইক্রোবাস: ২০–২৫ লিটার
-
পিকআপ ও লোকাল বাস: ৭০–৮০ লিটার ডিজেল
-
দূরপাল্লার বাস, ট্রাক ও কনটেইনার: ২০০–২২০ লিটার
আমদানিনির্ভরতার কারণে চাপ
বিপিসি জানিয়েছে, দেশে ব্যবহৃত জ্বালানি তেলের প্রায় ৯৫ শতাংশই আমদানিনির্ভর। বৈশ্বিক সংকটের কারণে কখনো কখনো আমদানি কার্যক্রম বিলম্বিত হতে পারে।
সাম্প্রতিক সময়ে তেলের মজুত নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খবর ছড়িয়ে পড়ায় অনেক ভোক্তা প্রয়োজনের তুলনায় বেশি তেল কিনছেন। এতে ফিলিং স্টেশনগুলোতে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে।
রসিদ দেখিয়ে তেল নিতে হবে
নির্দেশনায় বলা হয়েছে—
-
ফিলিং স্টেশন থেকে তেল নেওয়ার সময় ভোক্তাকে তেলের ধরন, পরিমাণ ও মূল্য উল্লেখ করে রসিদ দেওয়া হবে।
-
পরবর্তীবার তেল নেওয়ার সময় আগের রসিদ দেখাতে হবে।
-
ডিলাররা বরাদ্দ অনুযায়ী তেল সরবরাহ করবেন এবং বরাদ্দের বাইরে তেল দেওয়া যাবে না।
ফিলিং স্টেশনে ভিড়
রাজধানীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে ছুটির দিনেও দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। পরিবাগ এলাকায় একটি ফিলিং স্টেশন থেকে শাহবাগ মেট্রোরেল স্টেশন পর্যন্ত মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কারের লম্বা সারি দেখা যায়। লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে কয়েকজন চালকের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক ও হাতাহাতির ঘটনাও ঘটেছে।
বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাব
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। পাল্টাপাল্টি হামলার কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যেতে পারে—এমন আশঙ্কায় বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
তবে Energy and Mineral Resources Division জানিয়েছে, দেশে জ্বালানি তেলের মজুত এখনও রয়েছে এবং নিয়মিত আমদানি অব্যাহত আছে। তাই আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই।
জহির রায়হান