ঢাকা | |

হরমুজ প্রণালি ঘিরে উদ্বেগ: তেলের বাজারে অস্থিরতা, দাম ছুঁয়েছে ১২০ ডলার

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Mar 9, 2026 ইং
হরমুজ প্রণালি পার হচ্ছে দুইটি তেলের ট্যাংকার ।  ফাইল ছবি: রয়টার্স ক্যাপশন: হরমুজ প্রণালি পার হচ্ছে দুইটি তেলের ট্যাংকার । ফাইল ছবি: রয়টার্স
ad728
বিশ্ববাজারে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়ার প্রেক্ষাপটে বিশ্ববাজারে আবারও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। কয়েক দিনের ব্যবধানে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে প্রতি ব্যারেল প্রায় ১২০ ডলারে পৌঁছেছে। বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে তা সত্তরের দশকের বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের মতো বড় ধাক্কা তৈরি করতে পারে।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এক নজরে

বিশ্বে প্রতিদিন প্রায় ১০ কোটি ব্যারেল তেলের চাহিদা রয়েছে

হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন যায় প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেল

এটি বৈশ্বিক তেল ব্যবহারের প্রায় ২০ শতাংশ

পুরোপুরি বন্ধ হলে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জ্বালানি সংকট তৈরি হতে পারে

কেন গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি

বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় হরমুজ প্রণালি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নৌপথ। যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন প্রায় দুই কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। সমুদ্রপথে পরিবাহিত মোট তেলের এক-চতুর্থাংশেরও বেশি এই প্রণালির ওপর নির্ভরশীল।

এই তেলের বড় অংশই যায় এশিয়ার দেশগুলোতে। বিশেষ করে চীন, ভারত, জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়া তাদের জ্বালানি সরবরাহের জন্য এই পথের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল।

এশিয়ার অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি

বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘমেয়াদি অচলাবস্থা তৈরি হলে এশিয়ার দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতিগুলো সবচেয়ে বড় ধাক্কা খাবে। তেলের সরবরাহ কমে গেলে শিল্প উৎপাদন, পরিবহন ব্যয় এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খরচ দ্রুত বেড়ে যেতে পারে।

ইতিহাসের তুলনায় বড় সংকটের আশঙ্কা

বাজার বিশ্লেষণভিত্তিক নিউজলেটার দ্য কোবেসি লেটার–এ প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলে বিশ্ববাজার থেকে প্রতিদিন প্রায় দুই কোটি ব্যারেল তেলের সরবরাহ কমে যেতে পারে।

তুলনায় দেখা যায়—

১৯৭৩ সালের ইয়োম কিপুর যুদ্ধের সময় বিশ্ববাজারে দৈনিক প্রায় ৪০–৫৫ লাখ ব্যারেল তেলের ঘাটতি তৈরি হয়েছিল।

১৯৭৮ সালের ইরানের ইসলামী বিপ্লব এবং ১৯৮০ সালের ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময়ও সরবরাহ সংকট ছিল দৈনিক প্রায় ৪০–৬০ লাখ ব্যারেল।

অর্থাৎ সম্ভাব্য নতুন সংকট অতীতের বড় ধাক্কাগুলোর তুলনায় কয়েক গুণ বেশি প্রভাব ফেলতে পারে।

বিকল্প পথ কতটা কার্যকর?

তবে বিশ্লেষকেরা বলছেন, পুরোপুরি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তুলনামূলক কম। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত বিকল্প পাইপলাইনের মাধ্যমে সীমিত পরিমাণ তেল অন্য পথে সরবরাহ করতে পারে।

এছাড়া অনেক দেশের কৌশলগত তেল মজুতও জরুরি পরিস্থিতিতে কিছুটা সুরক্ষা দিতে পারে।

দাম বাড়লে বাড়বে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি

তেলের দাম বাড়লে বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতির চাপও দ্রুত বেড়ে যেতে পারে। বিশেষ করে তেল আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য প্রধান সমস্যা হবে জ্বালানির বাড়তি দাম সামাল দেওয়া।

বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ একটি মাত্র সরু নৌপথের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় হরমুজ প্রণালিতে বড় ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হলে তা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা দিতে পারে।
কমেন্ট বক্স

নিউজলেটার

নিউজ আপডেট পিতে সাবস্ক্রাব করুন।