ঢাকা | |

ইরাকের আকাশে মার্কিন কেসি-১৩৫ ট্যাংকার উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত, তদন্ত শুরু

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Mar 13, 2026 ইং
একটি বোয়িং কেসি–১৩৫ স্ট্র্যাটোট্যাংকার উড়োজাহাজ থেকে জ্বালানি নিচ্ছে ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর একটি এফ–৩৫ যুদ্ধবিমান  ফাইল ছবি: এএফপি ক্যাপশন: একটি বোয়িং কেসি–১৩৫ স্ট্র্যাটোট্যাংকার উড়োজাহাজ থেকে জ্বালানি নিচ্ছে ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর একটি এফ–৩৫ যুদ্ধবিমান ফাইল ছবি: এএফপি
ad728

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযানের মধ্যে ইরাকের আকাশসীমায় একটি মার্কিন জ্বালানি সরবরাহকারী উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে।

সেন্টকমের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ চলাকালে বন্ধুপ্রতিম আকাশসীমায় একটি কেসি-১৩৫ রিফুয়েলিং উড়োজাহাজ দুর্ঘটনার শিকার হয়। দুর্ঘটনার পর উদ্ধার তৎপরতা শুরু করা হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ঘটনাটির সঙ্গে দুটি উড়োজাহাজ যুক্ত ছিল। এর মধ্যে একটি পশ্চিম ইরাকে বিধ্বস্ত হয়েছে এবং অন্যটি নিরাপদে অবতরণ করতে সক্ষম হয়েছে।

সেন্টকমের দাবি, শত্রুপক্ষের হামলা কিংবা নিজেদের বাহিনীর ভুলবশত হামলার কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেনি।

তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মার্কিন কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, বিধ্বস্ত উড়োজাহাজটিতে ছয়জন আরোহী ছিলেন।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মাঝ আকাশে দুটি উড়োজাহাজের মধ্যে সংঘর্ষের সম্ভাবনা থাকতে পারে। তবে দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত করা হয়নি।

আগেও ঘটেছিল বিমান দুর্ঘটনা

চলমান সংঘাতের শুরুর দিকে কুয়েতের আকাশে তিনটি মার্কিন যুদ্ধবিমানও ভূপাতিত হওয়ার ঘটনা ঘটে। তখন সেন্টকম জানিয়েছিল, কুয়েতের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা থেকে ভুলবশত নিক্ষিপ্ত ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে এফ-১৫ই স্ট্রাইক ইগল যুদ্ধবিমানগুলো ভূপাতিত হয়েছিল। ওই ঘটনায় ছয়জন ক্রু নিরাপদে বের হয়ে আসেন।

কেসি-১৩৫ ট্যাংকার বিমানের ভূমিকা

কেসি-১৩৫ ধরনের ট্যাংকার উড়োজাহাজ যুদ্ধক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এসব বিমান আকাশে উড়ন্ত অবস্থায় যুদ্ধবিমান, বোমারু বিমান এবং নজরদারি উড়োজাহাজকে জ্বালানি সরবরাহ করে।

লক্ষ্যবস্তু অনেক দূরে হলে এই ধরনের ট্যাংকার বিমানের সাহায্যে যুদ্ধবিমানগুলো মাঝ আকাশেই জ্বালানি গ্রহণ করে দীর্ঘ সময় মিশনে থাকতে পারে।

জ্বালানি নেওয়ার প্রক্রিয়াটি বেশ জটিল। ট্যাংকার বিমান থেকে একটি বিশেষ নল বা ‘বুম’ নিচে নামানো হয়। এরপর যুদ্ধবিমানটিকে অত্যন্ত কাছাকাছি অবস্থানে এনে সেটির সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে হয়। সংযোগ হওয়ার পর কয়েক মিনিটের মধ্যে জ্বালানি স্থানান্তর সম্পন্ন হয়।

কত ক্রু থাকে

সাধারণত একটি কেসি-১৩৫ বিমানে তিনজন ক্রু থাকেন—একজন পাইলট, একজন কো-পাইলট এবং একজন বুম অপারেটর। যুক্তরাষ্ট্রের এয়ার মোবিলিটি কমান্ডের বহরে প্রায় ৪০০টির মতো এ ধরনের ট্যাংকার বিমান রয়েছে।

উড়োজাহাজটির দাম কত

মার্কিন বিমানবাহিনীর বহরে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান হলো কেসি-১৩৫ স্ট্র্যাটোট্যাংকার। এটি তৈরি করেছে বোয়িং।

দাপ্তরিক তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৮ অর্থবছরের নির্ধারিত মূল্যে একটি কেসি-১৩৫ বিমানের উৎপাদন খরচ ছিল প্রায় ৩ কোটি ৯৬ লাখ ডলার। বর্তমানে নতুন করে এই বিমান তৈরি না করে বিদ্যমান বিমানগুলো আধুনিকায়নের মাধ্যমে ব্যবহার করা হচ্ছে।

কমেন্ট বক্স

নিউজলেটার

নিউজ আপডেট পিতে সাবস্ক্রাব করুন।