ঢাকা | |

ভুয়া ফটোকার্ডে বাড়ছে রাজনৈতিক অপতথ্য, জনমত প্রভাবের নতুন কৌশল

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Apr 8, 2026 ইং
ডিসমিসল্যাব প্রতিবেদনের স্ক্রিনশট। ক্যাপশন: ডিসমিসল্যাব প্রতিবেদনের স্ক্রিনশট।
ad728

বাংলাদেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজনৈতিক অপতথ্য ছড়ানোর একটি বড় মাধ্যম হিসেবে উঠে এসেছে সংবাদমাধ্যমের আদলে তৈরি ভুয়া ফটোকার্ড। এসব কার্ডে পরিচিত সংবাদমাধ্যমগুলোর লোগো, রং, ফন্ট ও ডিজাইন হুবহু নকল করে এমনভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, যাতে মিথ্যা তথ্যও সাধারণ মানুষের কাছে বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়।

তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান ডিসমিসল্যাবের এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই প্রবণতা বিচ্ছিন্ন নয়; বরং এটি একটি সুসংগঠিত কৌশলের অংশ। বিশ্লেষকদের মতে, জনমত প্রভাবিত করতে মূলধারার সংবাদমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতাকেই ব্যবহার করা হচ্ছে।

ছয় মাসে শত শত ভুয়া ফটোকার্ড শনাক্ত

গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ছয় মাসে বিভিন্ন ফ্যাক্ট-চেকিং সংস্থার প্রকাশিত ৫৩৮টি রাজনৈতিক যাচাই প্রতিবেদনের ওপর বিশ্লেষণ চালানো হয়। এতে মোট ৬৯০টি ভুয়া ফটোকার্ড শনাক্ত করা হয়েছে।

এসব ফটোকার্ডের অনেকগুলোই দেশের পরিচিত সংবাদমাধ্যমের আদলে তৈরি, যা ব্যবহারকারীদের বিভ্রান্ত করতে বড় ভূমিকা রাখছে।

ভুয়া ফটোকার্ডের ধরন

বিশ্লেষণে দেখা যায়, ভুয়া ফটোকার্ড প্রধানত দুই ধরনের—

  • সংবাদধর্মী কার্ড (৫১.৭%): গ্রেপ্তার, অভিযান, অপরাধ বা জরিপের নামে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হয়
  • উদ্ধৃতি ভিত্তিক কার্ড (৪৮.৩%): বিভিন্ন ব্যক্তি বা নেতার নামে বানানো বক্তব্য প্রচার করা হয়

বিশেষ করে নির্বাচনকেন্দ্রিক সময়ে এসব অপতথ্যের বিস্তার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।

নির্বাচনের সময় সর্বোচ্চ অপতথ্য

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালের শেষ দিকে এ ধরনের ভুয়া কনটেন্ট দ্রুত বাড়তে থাকে এবং নির্বাচনী সময় জানুয়ারিতে তা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়।

নির্বাচনের আগের দিন সবচেয়ে বেশি ভুয়া তথ্য ছড়ানো হয়, যেখানে প্রার্থীদের সরে দাঁড়ানো, ভোট কেনা বা আটক হওয়ার মতো নানা ভিত্তিহীন দাবি প্রচার করা হয়।

রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই ব্যবহার

ভুয়া ফটোকার্ডের বড় অংশই ব্যবহার করা হয়েছে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করার জন্য। বিশ্লেষণে দেখা গেছে—

  • প্রায় ৬২% কার্ড রাজনৈতিক আক্রমণের উদ্দেশ্যে
  • ১৬% নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে
  • ১২.৫% ইতিবাচক প্রচারণার জন্য ব্যবহৃত

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের আদল নকল

এসব ফটোকার্ডে বিভিন্ন পরিচিত সংবাদমাধ্যমের ভিজ্যুয়াল স্টাইল নকল করা হয়েছে। এতে ব্যবহারকারীরা সহজেই বিভ্রান্ত হচ্ছেন এবং মিথ্যা তথ্যকে সত্য বলে মনে করছেন।

রাজনৈতিক সমর্থকদের মধ্যে ব্যবহারের ধরনেও ভিন্নতা দেখা গেছে, যেখানে ভিন্ন ভিন্ন সংবাদমাধ্যমের ডিজাইন বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে।

 দল ও ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে অপতথ্য

বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নেতাদের লক্ষ্য করে ব্যাপক অপতথ্য ছড়ানো হয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এসব তথ্য নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

এ ছাড়া কিছু ক্ষেত্রে জনপ্রিয়তা বাড়িয়ে দেখাতে ইতিবাচক ভুয়া তথ্যও প্রচার করা হয়েছে, যা জনমত প্রভাবিত করার একটি কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ব্যক্তিগতভাবে শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা, দলীয় প্রধান এবং ছাত্রনেতারাও এসব অপতথ্যের লক্ষ্যবস্তু হয়েছেন।

 তথ্য সচেতনতার গুরুত্ব

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভুয়া ফটোকার্ডের এই প্রবণতা মোকাবিলায় গণমাধ্যম সচেতনতা বৃদ্ধি এবং তথ্য যাচাইয়ের অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। ব্যবহারকারীদের উচিত যেকোনো তথ্য শেয়ার করার আগে নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে যাচাই করা।

কমেন্ট বক্স

নিউজলেটার

নিউজ আপডেট পিতে সাবস্ক্রাব করুন।